রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে জিজ্ঞাসা করেন সুন্দরবনে অসুবিধা হচ্ছে কি না

  • Uploaded 11 months ago in the category Bangladesh

    রয়েল বেঙ্গল টাইগারের কাছে নয়,আপনার কাছেই জানতে চাই---nn•ভারতের যৌথ উদ্যোগে সুন্দরবনের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকানা দুই দেশের হলেও এটা নির্মাণের জন্য ভারতীয়

    ...

    রয়েল বেঙ্গল টাইগারের কাছে নয়,আপনার কাছেই জানতে চাই---nn•ভারতের যৌথ উদ্যোগে সুন্দরবনের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকানা দুই দেশের হলেও এটা নির্মাণের জন্য ভারতীয় ব্যাংক থেকে ১৬০ কোটি ডলার ঋণের পুরো দায়ভার শুধুই বাংলাদেশের একার কেন ?n•এ ঋণের ‘গ্যারান্টার’ বা জামিনদার বাংলাদেশকে বানানো হলেও এর মুনাফার অংশীদারিত্ব ভারতের । সাথে ঠিকাদারি কাজ থেকে শুরু করে কয়লার সরবরাহের ব্যবসা সবই ভারতের একার । এটা কি চুক্তি, না দাসখত ?n•পরিবেশবাদীদের উদ্বেগের কারণে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব প্রতিষ্ঠান এনটিপিসি'র সাথে শ্রীলঙ্কার ত্রিনকোমালিতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের চুক্তিটি কেন বাতিল করে দিয়েছে শ্রীলঙ্কার সরকার ?n•রামপালের পরিবেশবিধ্বংসী বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউনেস্কো ও রামসার।n•ভারতের এ প্রকল্পে যুক্ত থাকার কারণে নরওয়ে ভারতের এনটিপিসিতে অর্থ জোগান বন্ধ করে দিয়েছে।n•বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ব্যাংকও এ প্রকল্পে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।n•ভারত ব্যস্ত সুন্দরবনকে ঘিরে তাদের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির কাজে। সরকার ব্যস্ত ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে।n•প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখার স্বার্থে সরকারের যেন পরিবেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখার কোনো প্রয়োজনই নেই!n•বিশ্বের কোথাও সংরক্ষিত বনভূমি ও বসতির ১৫ থেকে ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয় না। অথচ ভারতীয় কোম্পানি আমাদের সুন্দরবনের ৯-১৪ কিলোমিটারের মধ্যেই এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। আর বাফার জোন বিবেচনা করলে তো এ দূরত্ব মাত্র চার কিলোমিটারের মধ্যে।n•ভারতের নিজেদের বনভূমি ও পরিবেশ সংরক্ষণে রয়েছে শক্ত আইনকানুন। ভারতের ‘বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইন ১৯৭২’, পরিবেশের গাইডলাইন ম্যানুয়াল ২০১০ এবং ‘তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন সংক্রান্ত গাইডলাইন ১৯৮৭’ অনুযায়ী সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা যায় না।n•ভারতের তিনটি রাজ্যে গত কয়েক বছরে তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্রকে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। আর ভারতীয় কোম্পানি কোথাও এটা করতে না পেরে বাংলাদেশের সুন্দরবনকে বেছে নিয়েছে।n•ভারতের গ্রিন ট্রাইব্যুনাল কর্ণাটক রাজ্যে এনটিপিসির প্রস্তাবিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছাড়পত্র স্থগিত করে দিয়েছে।n•ভারত-বাংলাদেশ দুই দেশের মধ্যে সুন্দরবন এবং রয়েল বেঙ্গল টাইগার রক্ষার চুক্তি এখনো বিদ্যমান রয়েছে। অথচ সুন্দরবনের বুক চিরে দশটি খাল ভরাট করে এবং প্রায় দুই হাজার একর কৃষিজমি ধ্বংস করে প্রাণঘাতী এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ চলছে।n•এ প্রকল্পে আট হাজার পরিবার উচ্ছেদ হয়ে সম্পূর্ণ উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে।n•ভারত তার নিজ ভূমিতে মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটক ও তামিলনাড়ুতে এ ধরনের বিদ্যুৎ প্রকল্পকে নিজ দেশের পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে বাতিল করলেও বাংলাদেশের সুন্দরবন রক্ষায় তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। ভারতের পরিবেশ মন্ত্রণালয় মধ্যপ্রদেশে বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রস্তাবিত স্থানকে কৃষিজমির জন্য বিপজ্জনক বিধায় পুরো প্রকল্পটিই বাতিল করে দিয়েছে। তারা নর্মদা নদী থেকে প্রকল্পের জন্য ৩২ কিউসেক পানি উত্তোলনকে অবৈধ বলে ঘোষণা করেছে।n•আমাদের পশুর নদী মিঠা ও নোনা পানির ভারসাম্য বজায় রেখে সুন্দরবনকে বাঁচিয়ে রেখেছে। রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে পশুর নদী থেকে প্রতি ঘণ্টায় ৯১৫০ ঘনমিটার করে পানি প্রত্যাহার করতে হবে।n•রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে বছরে কমপক্ষে ৬৫ লিটার পারদ সুন্দরবনে ছেড়ে দেওয়া হবে। বছরে সাড়ে চার কোটি লিটার গরম ও দূষিত পানি সুন্দরবনে ফেলা হবে। এতে সুন্দরবনসংলগ্ন নদীগুলোর পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে দুই থেকে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যাবে।n•ভারত বাংলাদেশের সুসম্পর্কের চেয়ে বাঁচার জন্য পরিবেশের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক রাখাটাই বেশি প্রয়োজন।n•যেখানে এ প্রকল্পের ১৫% অর্থায়ন করবে পিডিবি, ১৫% ভারতীয় পক্ষ, আর বাকি ৭০% ঋণ নেওয়া হবে। অথচ লাভের বেলায় ভারত নিয়ে যাবে ৫০% হারে, তাও আবার বিনা শুল্কে, কোনো ট্যাক্স খাজনা না দিয়ে। অথচ এ ১৫% টাকা আমাদের প্রবাসীরা অনায়াসে মাত্র দুই দিনেই তহবিলে জমা দিতে পারে।n•প্রতিবছর ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৮৫ লাখ টন কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গত হবে, সেখানে কী করে ছাড়পত্র দিতে পারে আমাদের পরিবেশ অধিদফতর?n•দেশে যদি সম্পূর্ণ ফ্রি বিদ্যুতের ব্যবস্থাও করা হয়, তবুও তা সুন্দরবনকে ধ্বংস করে নয়।n•সুন্দরবন ধ্বংস করে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন কেন অবৈধ নয় মর্মে গত বছর সরকারের বিরুদ্ধে রুল জারি করেছিলেন আমাদের হাইকোর্ট। অথচ এতদিন পরেও উচ্চ আদালত পর্যন্ত কেন সুন্দরবনকে আর বাঁচাতে পারছে না?n•সুন্দরবন নিজে কথা বলতে পারে না। তাই বলে কি সুন্দরবনের মতো আমরাও বোবা হয়ে গেছি?n•বিদ্যুৎকেন্দ্র আরেকটা করা যাবে, কিন্তু সুন্দরবন তো আরেকটা করা যাবে না।n•প্রতিটা দেশের সরকারই তার নিজের দেশ, দেশের সম্পদ, পরিবেশ ও দেশের মানুষের কথা ভাবে। আমরাই একমাত্র নিজেদের সম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংস করে সৌন্দর্যচর্চার ফেসিয়াল কার্বন উৎপাদনের কথা ভাবি !! Tuhin Malik

  • রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে জিজ্ঞাসা করেন সুন্দরবনে অসুবিধা হচ্ছে কি না
show more show less
    Comments (0)